মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়

Medicine Price BD

মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়ঃ সময়ের সাথে সাথে মানুষ সৌন্দর্যচর্চার দেখে দিন দিন একটু বেশি মনোযোগী হয়ে পড়ছে। মুখ এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সৌন্দর্য ধরে রাখতে ব্যবহার করছে বিভিন্ন ক্রিম এবং ঔষধ। তবে মুখের উজ্জ্বলতা বা ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ক্রিম এবং ঔষধগুলোর চেয়ে নিরাপদ হলো কিছু ঘরোয়া উপায়। কারণ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে মুখের উজ্জলতা বৃদ্ধিতে যে সকল ক্রিম ব্যবহার করা হয় সেগুলোর বেশিরভাগই স্কিন ক্যান্সার সৃষ্টি করে থাকে।

মুখের উজ্জ্বলতা কমার কারণ

যতই দিন যাচ্ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা আস্তে আস্তে ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা সবসময়ই আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া বিভিন্ন কারণে আমাদের মুখের উজ্জলতা কমতে পারে। 

আরো পড়ুনঃ মেয়েদের অতিরিক্ত সাদা স্রাব বন্ধ করার উপায়

অনেক সময় দেখা যায় যে আমাদের যখন যা ইচ্ছা তখন তাই গ্রহণ করি। অস্বাস্থ্যকর তেলেভাজা ফুটপাতের খাবার হোক কিংবা দামী রেস্টুরেন্টের ফাস্টফুড হোক, খাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোন হিসাব থাকে না। তাছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে টিভি কিংবা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা বা স্কুল কলেজে বন্ধুদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দেওয়া এই সবকিছুই আমাদের মুখের উজ্জলতা কমাতে খুব সাহায্য করে। তো চলুন এক পলকে দেখে নেই যে কি কি কারণে আমাদের মুখের উজ্জলতা কমতে পারে-

  • অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে.
  • অতিরিক্ত রাত জাগলে।
  • অত্যাধিক পরিমাণে পরিশ্রম করলে।
  • ভাজাপোড়া এবং ফাস্টফুড জাতীয় খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে।
  • দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটার কিংবা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকলে।
  • কড়া রোদে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে।
  • দিনের বেশিরভাগ সময় বাহিরে ঘুরাঘুরি করে কাটালে।
  • নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহণ না করলে।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ এর মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করলে।
  • বেশিরভাগ সময় বিষণ্ন অবস্থায় থাকলে।
  • শরীরের স্বাভাবিক যত্ন না নিলে।
  • নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম না করলে।

মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায়

মেয়েদের মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির ক্রিম এর পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপায় গুলো নিরাপদ। দিন দিন আপনি যদি আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা হারাতে থাকেন তাহলে নিশ্চিত যে আপনি উপরের যেকোনো একটি ক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে সময় অতিবাহিত করছেন। যদি এমনটাই হয়ে থাকে তাহলে যত দ্রুত সম্ভব আপনার সেই অভ্যাস পরিত্যাগ করে নিচের উপায়গুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করুন। 

সানক্রিমঃ আপনার যদি তীব্র রোদে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাতে হয় তবে অবশ্যই সান ক্রিম ব্যবহার করুন। এতে করে সূর্যের আলোর ক্ষতিকর রশ্মি থেকে আপনার ত্বক খুব সহজেই রক্ষা পাবে।

পানিঃ প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। ত্বক যদি সুস্থ অবস্থায় থাকে তবে এর ওপর বিভিন্ন ধরনের বলিরেখা দেখা যায়। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে এসকল বলিরেখা খুব সহজেই বিলুপ্ত হয়।

নিয়মিত ঘুমঃ সারাদিন কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের পর রাতে নিয়ম করে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমিয়ে নিন। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন কমপক্ষে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর অপরিহার্য। নিয়মিত না ঘুমালে চোখের নিচের কালো দাগ পড়বে এবং আপনার ত্বক নিস্তেজ হয়ে।

শারীরিক ব্যায়াম করুনঃ অনেকে মনে করে যে শারীরিক ব্যায়াম করলে শরীর কালো হয়ে যায়। কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণরূপে ভুল। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করলে মন মেজাজ ভালো থাকে এবং শরীরে ক্লান্তি চলে আসে। এতে করে রাতে গভীর ঘুম হয় যা ত্বকের জন্য অত্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সাবান ব্যবহার কমিয়ে দিনঃ আমরা সাধারণত সাবান ব্যবহার করে থাকি শরীর এবং ত্বক পরিষ্কার করার জন্য। কিন্তু আপনি জেনে আশ্চর্য হবেন যে সাবানে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায় যেগুলো শরীর পরিষ্কার করলেও ত্বকের ওপর থেকে এক ধরনের তেল এবং সীরাম তুলে ফেলেন। এতে করে ত্বকের পিএইচ লেভেল ভারসাম্যহীন হয়ে উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়। 

হাসিখুশি থাকুনঃ মানসিক চাপ এবং অতিরিক্ত শারীরিক অবসাদ আপনার মুখের মাধ্যমে ফুটে ওঠে। সুতরাং আপনি যদি অতিরিক্ত চাপে আপনার সময় অতিবাহিত করেন তবে স্বাভাবিকভাবেই এতে আপনার ত্বক সংক্রমিত হবে যার ফলে আপনার মুখের উজ্জ্বলতা কমে যাবে। 

পুষ্টিকর খাবারঃ ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে পিছনে আরেকটি অন্যতম কারণ হলো বাজে খাদ্যাভ্যাস। আপনি যদি অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং তেল জাতীয় খাবার খান তবে নিশ্চিত হবে আপনার ত্বক সংক্রমিত হবে। সুতরাং এগুলো পরিহার করে সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূল নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে শরীরে বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেল এর ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি পাবে। 

আরো পড়ুনঃ খুশকি দূর করার উপায়

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির ঘরোয়া উপায়

শারীরিক বিভিন্ন উপায় অবলম্বন এর পাশাপাশি ঘরোয়া উপায়ে কিছু প্রাকৃতিক ফেস প্যাক বানিয়ে নিতে পারেন। মুখের কালচে ভাব দূর করার উপায় হিসেবে এই উপায় গুলোর বিকল্প পাওয়া কঠিন। এগুলো নিচে আলোচনা করা হলো। 

পাতিলেবুর রসঃ লেবুর রস কখনো সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না। এতে করে আপনার হিতে বিপরীত হতে পারে। বরং আটা ময়দা, ফুল ফ্যাট দুধ এবং লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে একটি কার্যকরী প্যাক বানাতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে পাশাপাশি অবশ্যই ভালো কোন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। 

অ্যালোভেরাঃ অ্যালোভেরা আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরার জেল সাথে ১ চা চামচ মধু এবং 1 চা চামচ দুধ একসাথে মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করুন। ২০ মিনিট এভাবে রেখে দিয়ে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে করে ভালো উপকার পাবেন।

গাজরঃ গাজর খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এটা আমরা অনেকেই জানি। তবে খাওয়ার পাশাপাশি গাজর কুচি কুচি করে কেটে নিয়ে তা থেকে রস বের করে তার সাথে সামান্য মধু এবং টকদই মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। লাগানোর ২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

হলুদঃ হলুদ মুখের উজ্জলতা বৃদ্ধিতে তড়িৎ গতিতে কাজ করে থাকে। এক চামচ হলুদ গুঁড়া এবং বেসন সামান্য পরিমাণ দুধ দিয়ে গুলে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এরপর তা আপনার মুখ এবং গলায় লাগিয়ে ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে হলুদের গুঁড়ো তে যেন কোনোভাবেই মরিচ বা অন্য কোন কিছুর গুঁড়ো মেশানো না থাকে। 

পেঁপেঃ পাকা পেঁপে ১ চা চামচ মসৃণ করে নিয়ে তার সাথে দুই চামচ শশার রস এবং অর্ধেক কলা মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এটি মুখে দিয়ে ৩০ মিনিট পর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

চন্দনঃ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে চন্দন এর বিকল্প কোনো উপকরণ হয় না। নিয়মিত চন্দন ব্যবহার করলে এর টাইরোসিন এস ত্বকের মেলানিন এর উৎপাদন কমিয়ে দেয় যার ফলে ত্বক অত্যন্ত সতেজ এবং উজ্জ্বল থাকে। চন্দন এর সাথে আমন্ড পাউডার এবং দুধ মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করুন। এতে করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে বহুগুণে। তবে যাদের চন্দনে এলার্জি রয়েছে তারা এটি ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকুন।

শসাঃ গরমের সময় নিয়মিত শসা খেলে শরীর অত্যন্ত ঠান্ডা থাকে এবং সেই সাথে ত্বকের ও অনেক কাজ করে থাকে। তাকে খাওয়ার পাশাপাশি চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতেও মুখের উজ্জলতা বৃদ্ধিতে শসার রস সরাসরি ব্যবহার করা যেতে পারে। 

আরো পড়ুনঃ নিয়মিত মাসিক হওয়ার প্রাকৃতিক উপায়

গোলাপজলঃ ব্যবহার করার আগে গোলাপজল ফ্রিজে আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা রেখে দিতে হবে। এরপর তা প্রতিদিন তুলো দিয়ে ভিজিয়ে নিয়মিত মুখে ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি গোলাপজলের আইস কিউব বানিয়েও ব্যবহার করা যেতে পারে।

কমলালেবুর খোসাঃ যে কমলালেবুর খোসা আমরা ফেলে দেই সেটা আমাদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। কমলালেবুর খোসা গুড়ো করে দুই চামচ গুঁড়ো সাথে এক চামচ গোলাপজল মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।

শেষ কথা

মুখ এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির কারণ গুলো খুজে বের করে যদি সেগুলো পরিহার করা যায় তবে পরবর্তী উপায়গুলো অবলম্বন করা খুব সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু কারণ পরিহার না করে যতই প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করা হোক না কেন কোন অবস্থাতেই ত্বকের পরিবর্তন দেখা যাবে না। পুরুষের মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির উপায় হিসেবেও একই নিয়ম কার্যকর।

Medicine Price BD

Related medical and medicine article

সর্দি থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়

সর্দি থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়

আদা এবং তুলসী পাতা কুচি কুচি করে কেটে এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে ফুটাতে থাকুন। পানি যখন কমতে কমতে অর্ধেক হয়ে...Continue

খাবার খাওয়ার পর পায়খানা হয় কেন

যেভাবে বুঝবেন হরমোনের সমস্যায় ভুগছেন কিনা

হরমোন মূলত আমাদের শারীরিক সকল কার্যক্রমের সাথে সম্পর্কযুক্ত। শরীরের যদি কোন একটি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় কিংবা গ্রোথ ডেভেলপমেন্ট ঠিকমতো না...Continue

খাবার খাওয়ার পর পায়খানা হয় কেন

মাথা ঘোরালে যা করবেন।

দ্রুত মাথা ঘোরা কমাতে পানি, স্যালাইন অথবা কচি ডাবের পানি পান করতে পারেন। মাথা ঘোরার সঙ্গে যদি বমি হয়ে থাকে...Continue

খাবার খাওয়ার পর পায়খানা হয় কেন

খাবার খাওয়ার পর পায়খানা হয় কেন? জেনে নিন সমাধান।

খাবার খাওয়ার পর পায়খানা হয় কেন? আপনারও কি খাবার খাওয়ার পরপরই পেটে চাপ ধরে পায়খানার ভাব চলে আসে? যদি আপনার...Continue

arrow_right_alt